Sunday, February 25, 2024
No menu items!
Google search engine
Homeদেশমানসম্মত নির্ভুল বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে দিতে পাড়াই আমার প্রধান চ্যালেন্জ :...

মানসম্মত নির্ভুল বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে দিতে পাড়াই আমার প্রধান চ্যালেন্জ : অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম

শরীফ আহমেদ, রিপোর্টার :

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বিগত দিনে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে সুনাম এর সহিত দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে মাধ্যমে প্রফেসর জনাব,ফরহাদুল ইসলামকে এনসিটিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি গত ডিসেম্বরে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া এনসিটিবি সাবেক চেয়ারম্যান  অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহার স্থলাভিক্তিক হয়েছেন। দেশের শিক্ষার বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এনসিটিবি বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থা। এনসিটিবির মাধ্যমেই সারা দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়। আর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যের বইও দেওয়া হয় এ সংস্থার মাধ্যমে। প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা অনুদান প্রদান করে (এনসিটিবি বোর্ড)। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দেশের কোমলমতি শিশুদের মাঝে বই বিতরণ করবেন। শিক্ষাক্ষেত্রে বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রয়েছে অভাবনীয়  সফলতা। এর মধ্যে একটি হলো বছরের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ,এরই মধ্যে আবার প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তন এনেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্তী ডাঃ,দিপু মনি।এদিকে অত্যন্ত সুশিক্ষিত সাদা মনের ব্যাক্তিত্ব হয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন চেয়ারম্যান জনাব অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম সাহেবকে। নতুন দায়িত্বের চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয়ে দৈনিক বাংলার নবকন্ঠ সাংবাদিক সঙ্গে একান্তে সাক্ষাতকার দিয়েছেন,মাননীয় চেয়ারম্যান (এনসিটিবি) জনাব,অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম স্যার বলেন, আসন্ন ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের বই ডিসেম্বর মধ্যে দেশের সব থানা,উপজেলা, জেলাসহ বই পৌঁছে দেওয়া হবে। এজন্য আমরা বছরের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়ের অনুমোদন নিয়েছি, এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এনসিটিবি বোর্ড বইয়ের কাজ। আগামী ২০২৩ সালে মার্চের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। আগামী বছরের প্রথম-দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির নতুন পাণ্ডুলিপি করা হবে। এ পাণ্ডুলিপি পেতে লেগে যাবে জুন মাস। এ চারটি স্তর বাদ রেখে বাকি বইগুলোর দরপত্র আহ্বানের কাজ এই বছরে ন্যায় শুরু হবে। এসব বই অক্টোবরের মধ্যে দেশের সব অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া হবে। চারটি স্তরের নতুন বই দেওয়া হবে নভেম্বরের মধ্যে। এনসিটিবির বই তৈরির দরপত্রে শুধু দেশী প্রেসগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। সাংবাদিক এক প্রশ্ন প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার পর ভুলভ্রান্তি থাকছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? উওরেঃ মাননীয় চেয়ায়ম্যান  (এনসিটিবি) অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম সাহেব বলেনঃ ভুলের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে আমরা দেখেছি, একজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দিয়ে বিষয় ভিত্তিক বই মূল্যায়ন করবেন। একজন ব্যক্তি একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেখায় তার কাছে ভুল ধরা পড়ছে না। সে কারণে চলতি বছর থেকে একটি বিষয় দুজন বিশেষজ্ঞ দিয়ে নিরীক্ষণ করা হবে। ফলে সেখানে ভুলের সংখ্যা থাকবেই নাহ। পাশাপাশি আমরা যখন প্রেস মালিকদের পাঠ্যবইয়ের কারিকুলাম পাঠাই, সেটি প্রেস মালিকরা নিজেদের কম্পিউটারে প্রিন্ট করেন। এতে অনেক শব্দের ফ্রন্ট ভেঙে যায়।পরে ছাপার পর সেখানে নানা ধরনের বানান ভুল ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সেখানেও আমরা দ্রুত পরিবর্তন এনেছি।ইনশাআল্লাহ আগামীতে এই ধরনের ভুল ভ্রান্তি থাকবে নাহ। অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম এবছর পাঠ্যবইয়ের ভুলগুলো চিহ্নিত করতে এনসিটিবি ও বাইরের বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, ইংরেজি ভার্সনের বইগুলোর অনুবাদ এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের মাধ্যমে দুই দফায় করা হয়েছে। বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে অনুবাদগুলো নিরীক্ষা করা হলেও এতে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব বইয়ের দুর্বল অনুবাদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। একেকজন একেকভাবে তার মনের ভাব প্রকাশ করেন বলে সেটি অন্যদের কাছে পছন্দ হয় না বলে অভিযোগ আছে। যাকে দিয়ে অনুবাদ করানো হবে, অন্যজন মূল্যায়ন করলে তাতে ভুল ধরলে এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকে না। সে কারণে আগামী বছর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির নতুন বই হচ্ছে। তাতে মূল্যায়ন করা হচ্ছে তিনটি ধাপে। ধাপে ধাপে অন্য স্তরের বইগুলো একইভাবে মূল্যায়ন করে সংশোধন করা হবে। প্রশ্নঃ বিগত ৬০ বছর পর মাধ্যমিকের পাঠ্যবই ও পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে এনসিটিবি বোর্ড। এটি আপনি কীভাবে দেখছেন? মাননীয় এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের যে পদ্ধতিতে পড়ানো হচ্ছে তা ৬০ বছরের পুরোনো বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির ও ইতিহাস,এগুলো শিক্ষার্থীদের ভিতর একঘেঁয়েমি ভাব প্রকাশ পেয়েছে। নতুনত্ব বিষয় ভিওিক পাঠ্য বইয়ে নতুন পান্ডুলিপি তৈরী কাজ চলছে। অনেক কারনে শিক্ষার্থীরা পড়ার সময় তারা আনন্দ পায় না, বিষয়বস্তুু গুলো বুঝতে এঁকঘেয়েমি ভাব চলে আসছে। বর্তমানে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন হচ্ছে। সেটি হবে আরো আধুনিক পদ্ধতিতে। নতুন পাঠ্যবই পড়ে যেন শিক্ষার্থীরা আনন্দ পায়, সে কারণে বইয়ের উপাদানগুলো পুনর্বিন্যাস্ত করা হচ্ছে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নিজেদের পাঠ্য বুঝতে পারে এবং অনেক কিছু তারা হাতে-কলমে দ্রুত শিখতে লিখতে পারে। শিক্ষার্থীরা শিখবে নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে। শিক্ষার্থীদের   ক্লাসে পাঠদানের পদ্ধতিত গুলোতে আনা হয়েছে আমল পরিবর্তন। এটাই হলো নতুন পাঠ্যবইয়ের ভিন্নতা। শিক্ষার্থীরাও চায় নতুন বিষয় নতুন মুক্তিযুদ্ধের গল্প উপন্যাস ইতিহাস।  যে কোনো নতুন বিষয় শুরুর ক্ষেত্রে নানা বাধা আসে উল্লেখ করে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ শুরু করি, তখন সব শিক্ষাবোর্ড টানা একমাস ধর্মঘট চালিয়েছে। সেটি বাস্তবায়নের পর তারাই এখন পাচ্ছে এর সুফল। এখন পাবলিক পরীক্ষা শেষে বোর্ডগুলো পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে। নতুন কারিকুলাম ও পাঠদান পদ্ধতিতেও হয়তো শুরুতে কেউ কেউ অভিযোগ তুলতে পারেন। এটি যখন খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, তখন আর অভিযোগ থাকবে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তখন আনন্দবোধ করবে।

এমনকি এনসিটিবি বই তৈরী করেছে দেশের পাঁচটি ক্ষুদ্র নৃঁ-গোষ্ঠীকে অক্ষরতা নিয়ে সমাজে সুবিধা পায় সেজন্য নিজ ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের বই দেওয়া হচ্ছে সরকারি এটি একটি মহতী উদ্যেগ। মাননীয় এনসিটিবি চেয়ারম্যান

অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম আরো  বলেন,আমরা চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (কর্কবরক), গাঁরো ও ওঁরাও (সার্দরি)-এই পাঁচটি নৃঁ-গোষ্ঠীর ভাষার বই তাদের শিশুদের দিয়েছি। মণিপুরী ও সাঁওতালদের ভাষার বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে খুব দ্রুত তাদের কেও বই দেওয়া হবে। হরফে বই লেখা হবে এই দুই নৃঁ-গোষ্ঠী একাধিক ভাগে বিভক্তে আমরা যে পাঁচটি নৃঁ-গোষ্ঠীর শিশুদের বই দিয়েছি, তাতে এখন সুফল আসছে।আজ উপজাতীয় সম্প্রদায়ের ভিতর সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তা কর্মচারীকে হয়ে কাজ করছে। উপজাতীয় ভাষা শিক্ষাদান জন্য আমরা দক্ষ শিক্ষক তৈরী জন্য শিক্ষা মন্তনালয় সহযোগীতায় কিছু দক্ষ শিক্ষকদের এসব ভাষার ওপর পারদর্শী করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্চে। আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফল এলে আগামীতে বাকি দুটি ভাষায় শিশুদের বই দেওয়া হবে। আমি  নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে আমার এনসিটিবিকে নিয়ে নতুন  চ্যালেঞ্জ ও বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছি।

অধ্যাপক মো.ফরহাদুল ইসলাম আরো বলেন, নির্ভুল ও মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ নির্ধারিত সময়ে সকল বই মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। আমরা যদি সর্বোচ্চ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বই সাড়া দেশে পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে স্কুল পর্যায়েও পাঠ্যপুস্তক সরবরাহে একটি শৃঙ্খলা থাকবে। এনসিটিবি একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রমের বিষয়ে একক প্রতিষ্ঠান। আমাদের ওপর দেশবাসী ও সরকার কাছে আমি আমরা এনসিটিবি প্রতিষ্ঠান  অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশ জাতি ও আগামী দিনের ভবিষ্যৎ আমাদের কাছে অনেক আশা করে। তাদের আশা পূরণ ও প্রকৃতপক্ষে এটিকে জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তর করা আমার বড় চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে নিরক্ষরতা জাতী গড়া স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা হাতকে আরো শক্তিশালী লক্ষ্যে ও মাননীয় শিক্ষামন্তী ডাঃ দিপু মনি আপাকে নতুন বছরের মানসম্মত,নির্ভুল বই উপহার দিবো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments