Sunday, February 25, 2024
No menu items!
Google search engine
Homeদেশকে হচ্ছে আমতলী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সম্পাদক

কে হচ্ছে আমতলী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি সম্পাদক

এইচ. এম. রাসেল, আমতলী বরগুনা:
বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৩০অক্টোবর। এখনো ঘোষনা আসেনি সভাপতি সম্পাদকের নাম। সেদিন থেকেই শহরজুড়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্মেলনের দিন কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারনে ইতিমধ্যে কয়েকজন চিহ্নিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামিলীগ। ধারণা করা হচ্ছে যারা এই বিশৃঙ্খলার সাথে জরিত তাদের বড় কোন দায়িত্বে রাখা হবে না। স্থানীয় আওয়ামীলীগের একাধিক সূত্র বলছে সম্মেলনকে বিতর্কিত করতেই পরিকল্পিত ভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। মূলত বর্তমান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে অপমান-অপদস্থ  করতে পূর্ব থেকেই এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। মূলত এই পরিকল্পনার সাথে যুক্ত ছিলেন আমতলী উপজেলা পরিষদের বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার ফোরকার যার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই বিএনপি- জামাতের রাজনীতির সাথে জরিত। সূত্র বলছে সম্মেলনের দিন হামলাকারীরা অধিকাংশই পটুয়াখালী জেলার ছাত্রদলের নেতাকর্মী। উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছে সম্মেলনের দিন সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মাইকে অনেক বার সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করলেও বিএনপি- জামাত থেকে মনোনীত আমতলী পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজমুল আহসান নান্নু, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  জিএম মুসা ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জি এম হাসান পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলেন। পরবর্তীতে বরগুনা ১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়ান তারা। কেন্দ্রীয় নেতারাও তাদের নিভৃত করতে না পেরে সমাবেশ স্থল ত্যাগ করেন। কিছুক্ষণ বিরতির পর বিকেলে আবারও ২য় সেশনে  আওয়ামীলীগের বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি সম্পাদকদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট এম এ কাদের মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, ইউনিয়নের বিভিন্ন চেয়ারম্যানগন সহ প্রায় ২০ হাজার কাউন্সিলর, ডেলিগেটর ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা সর্বসম্মত কন্ঠে  হাত উঠিয়ে  এডভোকেট এম এ কাদের মিয়াকে সভাপতি ও মেয়র মতিয়ার রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের দাবী জানান। সভা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সকল নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন। সেই সভাতেই বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান বলেন, আমি দীর্ঘ ৯ বছর দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিটি ওয়ার্ডের কর্মী থেকে শুরু করে আওয়ামীলীগের সকল পর্যায়ের নেতাদের ভালোবাসা পেয়ে আসছি। আমি দক্ষতার সাথে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।  আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই বিএনপির ক্যাডার দিয়ে এই হামলা করা হয়েছে।
আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, দলমত নির্বিশেষ সকলের প্রিয় মানুষ মেয়র মতিয়ার রহমান। তার কর্মদক্ষতা ও রাজনৈতিক দর্শনে মুগ্ধ হয়ে গত নয় বছরে হাজার হাজার নেতাকর্মী দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন। তিনি আরো বলেন, মেয়র মতিয়ার রহমানের বিকল্প উপজেলা আওয়ামী লীগে কেউ নেই। দলের হাল ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তাকেই আবারো উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদ দেয়ার দাবী জানাই।
এদিকে সম্মেলনে বিশৃঙ্খলার কারনে এখনো ঘোষনা করা হয়নি উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি। তাই  সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
সূত্র বলছে, কমিটিতে পদ- পদবী পেতে লবিংএ ব্যস্থ নেতারা।  মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় না হলেই লবিং করতে সক্রিয় একটি পক্ষ। পদ পেতে ইতিমধ্যে আমতলীর অধিকাংশ নেতাই ঢাকায় অবস্থান করছে। ছোটাছুটি করছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারেদ্বারে। অথচ এদের অনেককেই আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে পটুয়াখালীতে থাকতে দেখা গেছে। এমনকি আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিনেও অনুপস্থিত ছিলেন এই নেতারা। আর কমিটির সময় তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে গিয়েই তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।
উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক সিনিয়র নেতারা মনে করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট এম এ কাদের মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান দক্ষতার সাথে দীর্ঘ দিন দল পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কোন অস্বচ্ছতার অভিযোগ নেই। এই দুজনার হাতেই উপজেলা আওয়ামীলীগ নিরাপদ।
তবে কে হচ্ছে আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক তার জন্য  অপেক্ষায় পুরো উপজেলা বাসী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments